ই-সিম কি? ই-সিম এর সুবিধা এবং অসুবিধা কি কি? কিভাবে এই সিম ব্যবহার করব?

 আসসালামু আলাইকুম। আশাকরি সবাই সুস্থ আছেন এবং নিরাপদ আছেন। দিনদিন প্রযুক্তি এত উন্নত হচ্ছে যে অবিশ্বাস্য এমন অনেক কিছুই বিশ্বাস করতে হয় চোখে দেখে। এমনই একটি প্রযুক্তির নতুন আবিষ্কার হচ্ছে ইসিম। 

esim 

প্রথমেই জানা জরুরী সিম এর পূর্ণরূপ কি?

ই- সিম এর পূর্ণরূপ হল এমবেডেড সাবস্ক্রাইবার আইডেন্টিটি মডিউল।


ই সিম কি?

e-sim হলো একটি ডিজিটাল এমবেডেড সিম কার্ড। এটি কোন ফিজিক্যাল সিমকার্ড নয়, এমনকি এই সিমের জন্য আলাদাভাবে কোন সিম স্লট থাকছে না।

প্রশ্ন হল তাহলে এই সিমটা উঠাবো কোথায়?

বা কিভাবে এই সিম ব্যবহার করব?

এই সিমের সুবিধা গুলো কি কি?

অসুবিধা কি কি? 

কোথায় কেনা যায় এই সিম?

বিস্তারিত আলোচনা করব মূল ভিডিওতে।


আরো পড়ুন 

লক খুলতে গেলে ছবি তুলে দিবে আপনার ফোন

♦️প্রথমে আলোচনা করি এই সিম কোথায় কিনবেন? 

সত্য কথা বলতে এই সিমটি আপনি হাতে ধরতে পারবেন না, দেখতে পারবেন না, শুধু জানবেন যে আপনার ফোনে একটি ই সিম আছে। এটি কোন ফিজিক্যাল সিমকার্ড নয়। কাজেই আপনার ফোনে এই সিমটি তুলতে পারবেন না। আসলে এই সিমের এমন একটি বডি যা আমাদের নরমাল সিমের চেয়ে দশগুণ ছোট। কোম্পানি যখন স্মার্টফোন তৈরি করে তখন মাদারবোর্ডের সাথে ই সিমের চিপসেট যুক্ত করে দেয়। এইজন্য এই সিম কার্ড কে স্মার্টফোনের হার্ডওয়ার এর মধ্যে ধরা হয়। 

কাজেই ই-সিম কেনার প্রশ্নই ওঠে না।


♦️কিভাবে এই সিম ব্যবহার করব?/ ই সিম কিভাবে স্মার্টফোনে যুক্ত করবেন?

আমরা জানি যে ই সিম কার্ড স্মার্টফোনের হার্ডওয়ার এর একটি অংশ। এজন্য এই সিম কার্ডটি খোলাও লাগানোর প্রয়োজন পড়ে না। আপনি যে অপারেটরের সিম এই স্মার্টফোনে ব্যবহার করবেন। ওই সিম অপ্রেটর কাস্টমার কেয়ারের কল করে জেনে নিবেন যে কোন অ্যাপ ডাউনলোড করে সিম একটিভ করতে হবে । আপনি ওই অপারেটর প্রফাইল ডাউনলোড করে সিম একটিভ করে নিবেন।


♦️ কেন এই সিম ব্যবহার করা হয়?

মূলত এই সিম কার্ডটি ব্যবহার করা হয়েছে ডুয়েল সিম কার্ড ফিসার চালু করার জন্য অর্থাৎ এই সিমটা ট্রাডিশনাল সিম কার্ডের রিপ্লেস হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতি হচ্ছে ভার্চুয়াল রি-রাইটেবল। এর মানে হচ্ছে এটি ইচ্ছামত আলাদা আলাদা সিম রাইট করতে পারবেন, আবার আগের সিম ইন্সটল কোরতে পারবেন।


♦️ এতদিন পর্যন্ত আমরা আইফোনে এ স্মার্ট ওয়াচ কানেক্ট করার জন্য ব্লুটুথ ব্যবহার করতাম। কিন্তু এখন থেকে স্মার্ট ওয়াচ, ফিটনেস ব্যান্ড, বা যেকোনো ওয়ারায়েবল ডিভাইসে সরাসরি মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারবেন ই- সিমের সাহায্যে।

মানে যেই সিম আপনার আইফোনে এড করা আছে ওই একই সিম আপনি অ্যাপেল ওয়াচে ও ব্যবহার করতে পারবেন। 


♦️ সিমের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল । খুব সহজেই নেটওয়ার্ক অর্থাৎ মোবাইল অপারেটর পরিবর্তন করা যায়। 

এই সিম কার্ডটি অনেক ছোট যার কারনে আপনার ফোনে অনেক জায়গা ফাঁকা থাকবে, কম্পানি এখানে আরো নতুন কিছু ফিচার অ্যাড করতে পারবে। 

এই সিম খোলা বা লাগানোর কোন ঝামেলা নেই।

এই সিম সাপোর্টেড স্মার্টফোনগুলো দুটি সিম স্ট্যান্ডবাই মোডে থাকবে, এর ফলে একই সাথে কল রিসিভ এবং ডায়াল করা যাবে।

ইচ্ছামত আলাদা আলাদা সিম রাইট করতে পারবেন।

একই সঙ্গে চার-পাঁচটা সিমের ইনফর্মেশন সেভ করে রাখতে পারবেন।


♦️ অসুবিধা কি কি?

এই সিমটি ডিভাইস ইউজ করা বা ইনস্টল করা বেশ জটিল একটা কাজ। নরমাল সিম গুলো যখন তখন অন্য ফোনে ইন্সটল করলে সকল তথ্য পাওয়া যায় , কিন্তু ই সিমের তথ্য বের করা সম্ভব নয়। 

বিশেষ কোনো কারণে যদি মনে হয় আপনার গতিবিধি কেউ পর্যবেক্ষণ করছে, সে ক্ষেত্রে সিম কার্ড খুলে ফেললেই সমস্যার সমাধান। কিন্তু ই- সিমের ক্ষেত্রে এমন কোন সুবিধা নেই।


এই সিমটি অ্যাক্টিভ করেছে বর্তমানে বড় কয়েকটি স্মার্টফোন ব্র্যান্ড তার মধ্যে অ্যাপেল স্যামসাং এবং গুগোল পিক্সেল এর ফোনগুলোতে বর্তমান সময়ে ফিচারটি পাওয়া যাবে। 

যদি ই সিমের ইউজার সময়ের পরিবর্তনে বেশি হয় তাহলে হয়ত লোকাল কোম্পানিগুলো এ ফিচারটি একটিভ করতে পারে। 

আরো বিস্তারিত জানতে নিচের ভিডিওটি দেখুন:


JF Anika

যদি এই ওয়েবসাইটে লেখাগুলো ভালো লাগে তাহলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করবেন। এবং আমাদের পাশে থাকবেন। আল্লাহ আপনাদের সকলের মঙ্গল করুক। (আমিন)

2 Comments

Thanks for reading my writing, JF Anika.

ধন্যবাদ আমার লেখা গুলো পড়ার জন্য, জে.এফ আনিকা।

Post a Comment
Previous Post Next Post